চিকুনগুনিয়া
চিকুনগুনিয়া কি?
চিকুনগুনিয়া একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আফ্রিকা ও দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় এ রোগটির প্রাদুর্ভাব হলেও আইছিডিডিআর-বি সম্প্রতি আমাদের দেশের কিছু কিছু এলাকায় এ রোগের সংক্রমণ নিশ্চিত করেছেন। বাংলাদেশে চিকুনগুনিয়া সর্বপ্রথম ধরা পড়ে ২০০৮ সালে এরপর ২০১১ সালে চিকুনগুনিয়া দ্বিতীয়বারের মত আমাদের দেশে পরিলক্ষিত হয়। বর্তমানে রাজধানীতে চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব আবারো দেখা দিয়েছে।
চিকুনগুনিয়া রোগের লক্ষণঃ
১। প্রচণ্ড জ্বর (১০২-১০৪) ডিগ্রি ফারেনহাইট।
২। মাথা ব্যাথা।
৩। পেশি ব্যাথা।
৪। গিরায় তিব্র যন্ত্রণা।
৫। হাড়ের সংযোগস্থলে ফুলে যাওয়া।
৬। বমি ও বমিবমি ভাব।
৭। চোখ ওঠা বা কঞ্জান্টিভাইটিস হতে পারা।
৮। ২-৩ দিনের মধ্যে জ্বর চলে যাওয়া এবং শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়া।
৯। এ ছাড়া হঠাৎ চর্মরোগ ও চিকুনগুনিয়ার অন্যতম একটি লক্ষণ।
বিঃদ্রঃ
মশা দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার ৩-৭ দিনের মধ্যে চিকুনগুনিয়ার লক্ষণগুলি প্রকাশ পায়।
চিকুনগুনিয়ায় স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও রোগের প্রকটতাঃ
- চিকুনগুনিয়া একটি মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ। ডেঙ্গুর মতই চিকুনগুনিয়াও এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। জ্বর-ফুস্কুরি-গিরাব্যাথা থাকলে এবং রক্তে ডেঙ্গু এন্টিজেন নেগেটিভ হলে চিকনগুনিইয়া হয়েছে বলে ধরে নেয়া হয়।
- এডিস মশার আক্রমন সাধারণত দিনের বেলাতেই হয়। বিশেষ করে ভোর বেলা এবং সন্ধার সময়ে এই মশার আক্রমণ বেশি হয়। চিকুনগুনিয়া কোন প্রাণঘাতী রোগ নয় এবং আক্রান্ত ব্যাক্তি সাধারণত ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হয়ে ওঠে।
- কিছু কিছু ক্ষেত্রে সঠিক যত্ন ও চিকিৎসার অভাবে চিকুনগুনিয়া দীর্ঘমেয়াদী সাস্থ সমস্যা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে নবজাতক, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগী যদি চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হয় তাহলে প্রকট সাস্থ ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে।
চিকুনগুনিয়ার চিকিৎসাঃ
- রোগের লক্ষণ দেখা গেলে যত তারাতারি সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। চিকুনগুনিয়ার জন্য কোন ভ্যাকসিন বা টিকা নেই আর হ্যাঁ কোন প্রকার এন্টিবায়োটিক নেয়া উচিৎ নয়।
- পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন আর ডিহাইড্রেশন এড়াতে প্রচুর তরল খাবার খান। জ্বর এবং ব্যাথার জন্য প্রাথমিক ভাবে প্যারাসিটামল নিতে পারেন।




EmoticonEmoticon